বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রংপুরে শহীদ ওসমান হাদীর স্মরণে শোক র‍্যালী নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে দায়িত্ব পালন করতে হবে: রংপুর জেলা প্রশাসক দৌলতপুর আদালতের নির্দেশ অমান্য করে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার  অভিযোগ রংপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেন তৃতীয় লিঙ্গের রানী রাজশাহী কলেজ অ্যালামনাই এসোসিয়েশন নির্বাচনে আলোচনায় ওয়ালিদ লোহাগড়ায় বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় মামলা বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের শ্রদ্ধা নিবেদন ৭১ নিয়ে যারা বাজে মন্তব্য করছে তাদের জনগন সঠিক জবাব দিবেন: জুয়েল কুষ্টিয়া দৌলতপুরে শরীফ উদ্দিন জুয়েলের সৌজন্যে মহান বিজয় দিবস পালিত যথাযোগ্য মর্যাদায় রংপুরে মহান বিজয় দিবস পালিত

রাবিতে শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. জোহা দিবস পালিত 

শফিকুল আলম ইমন, রাজশাহী
  • Update Time : সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ১৫৮ Time View

শফিকুল আলম ইমন,রাজশাহী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. জোহা দিবস স্মরনে মহান শিক্ষক দিবস পালিত হয়েছে। ঊনসত্তরের এই দিনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ড. সৈয়দ মুহম্মদ শামসুজ্জোহা প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে পাকিস্তানী সেনাদের গুলিতে নিহত হন। তিনিই এদেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী।

রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি)  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দিবসের কর্মসূচিতে ভোরবেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবন, উপাচার্যভবনসহ অন্যান্য ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৯টায় উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. হুমায়ুন কবীর, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. অবায়দুর রহমান প্রামানিকসহ প্রশাসনের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা শহীদ ড. জোহার সমাধি ও জোহা স্মৃতিফলকে পুস্পার্ঘ্য অর্পণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন ও মোনাজাত করেন। এরপর রসায়ন বিভাগ ও শহীদ শামসুজ্জোহা হলসহ অন্যান্য আবাসিক হল, বিভাগ, রাবি স্কুল ও শেখ রাসেল মডেল স্কুল, শিক্ষক সমিতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ, অফিসার সমিতি এবং হল, বিভাগসহ অন্যান্য পেশাজীবী সমিতি ও ইউনিয়ন শহীদ জোহার সমাধি ও স্মৃতিফলকে পুস্পার্ঘ্য অর্পণ করে।

সকাল ১০টায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয় জোহা স্মারক বক্তৃতা। এতে ‘আমাদের শিক্ষা ভাবনা’ শীর্ষক বক্তৃতা দেন সাবেক শিক্ষা সচিব ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর মো. নজরুল ইসলাম খান। রসায়ন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া এতে সভাপতিত্ব করেন।

স্মারক বক্তা মো. নজরুল ইসলাম খান বলেন, শিক্ষা জীবনের জন্য সাধারণ প্রস্তুতি। এই প্রস্তুতি দেশ, জলবায়ু ও সংস্কৃতি ভেদে ভিন্ন হয়। সময়ের সাথে এই প্রস্তুতিও ভিন্নতর। মধ্যযুগে ভালো স্কুলে অশ্ব চালনা ও তরবারি চালনার শিক্ষা দেয়া হতো। আজকের দিনে তা হয়তো একটি ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটি। সাধারণ প্রস্তুতি এই কারণে বলছি যে শিক্ষা হলেই কর্মজীবনে গিয়ে যেকোনো কাজ সুচারুভাবে করা সম্ভব না। কর্মজীবনে যেকোনো কাজ দক্ষতার সাথে করতে হলে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। শিক্ষা প্রশিক্ষণের কিংবা প্রশিক্ষণ শিক্ষার প্রতিস্থাপক নয়। শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ শেষ কথাও নয়। বাস্তব জীবনে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগে কাজ করলে নতুন নতুন জ্ঞান, দক্ষতা এবং দৃষ্টিভঙ্গি অর্জিত হয় যাকে অভিজ্ঞতা বলা যেতে পারে। অভিজ্ঞতারও কোন বিকল্প নেই।

নজরুল ইসলাম খান তাঁর বক্তৃতায় আমাদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে উচ্চশিক্ষা সম্পর্কে বলেন, পাবালিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৩২৩টি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা ১১ লাখ ৩০ হাজার ৩২টি যা মোট প্রায় ১৪ লাখ। লক্ষ্যণীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন সংখ্যা চাহিদার তুলনায় বেশি কিন্তু বৃহত্তম অংশের শিক্ষাদানের পরিবেশ ও মান নিয়ে যথেষ্ট অসন্তুষ্টি রয়েছে। উচ্চশিক্ষায় নতুন নতুন বিষয়ের চাহিদা থাকলেও পুরাতন বিভাগ বন্ধ করা কিংবা শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমিয়ে দেয়ার উদ্যোগ দেখা যায় না। অপরপক্ষে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন বিভাগ খোলা হয় না বা যায় না।
আমরা যত বেশি শিক্ষিত হই, তত বেশি ভোগ করি। পুরানো দিনের সেই প্রবাদ, “লেখাপড়া করে যে গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে’। একজন কৃষক চিংড়ি খেয়ে সন্তুষ্ট হলেও আমরা উচ্চশিক্ষিতরা ম্যানগ্রোভের কাকড়া থেকে সমুদ্রের হাঙ্গরের পাখনার স্যুপ খাওয়ার আকাঙ্খা করি।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য গোলাম সাব্বির বলেন, বিশ্বে শিক্ষার ধারণা ব্যাপক ও বিস্তৃত। জ্ঞান ও ধারণা সদা প্রবহমান ও বিকাশশীল। শিক্ষা মেধাকে শানিত করে, মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। শহীদ ড. জোহা ছিলেন একজন মানবতাবাদী, তিনি বিশ্বের মানবতাবাদী চিন্তার উৎস। শহীদ জোহার জীবনাদর্শ, চিন্তা-চেতনা বাঙালি জাতিকে দিয়েছে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের অমিত অনুপ্রেরণা।

এছাড়াও দিবসের কর্মসূচিতে ছিল কোরআনখানি ও বিশেষ মোনাজাত,শহীদ শামসুজ্জোহা হলে দোয়া মাহফিল, শহীদ শামসুজ্জোহা হলের স্ফুলিঙ্গ চত্বরে প্রদীপ প্রজ্বলন ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। এ দিন শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা ছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category