বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রংপুরে শহীদ ওসমান হাদীর স্মরণে শোক র‍্যালী নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে দায়িত্ব পালন করতে হবে: রংপুর জেলা প্রশাসক দৌলতপুর আদালতের নির্দেশ অমান্য করে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার  অভিযোগ রংপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেন তৃতীয় লিঙ্গের রানী রাজশাহী কলেজ অ্যালামনাই এসোসিয়েশন নির্বাচনে আলোচনায় ওয়ালিদ লোহাগড়ায় বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় মামলা বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের শ্রদ্ধা নিবেদন ৭১ নিয়ে যারা বাজে মন্তব্য করছে তাদের জনগন সঠিক জবাব দিবেন: জুয়েল কুষ্টিয়া দৌলতপুরে শরীফ উদ্দিন জুয়েলের সৌজন্যে মহান বিজয় দিবস পালিত যথাযোগ্য মর্যাদায় রংপুরে মহান বিজয় দিবস পালিত

বিজয়ের মাসে রংপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্র্রীকে হত্যা

রিয়াজুল হক সাগর,রংপুর
  • Update Time : রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৩ Time View

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর:

রংপুরের তারাগঞ্জে নিজ বাড়ি থেকে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর রহিমাপুর গ্রামে এই নৃশংস জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) এবং তাঁর সহধর্মিণী সুবর্ণা রায় (৬০)। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টা বাজলেও যোগেশ চন্দ্র রায়ের বাড়িতে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে সন্দেহ হয় দীর্ঘদিনের পারিবারিক কেয়ারটেকার দীপক চন্দ্র রায়ের। আশপাশের লোকজনকে ডেকেও কোনো সাড়া না মেলায় শেষমেশ মই বেয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন প্রতিবেশীরা।ভেতরে ঢুকেই তাঁরা আঁতকে ওঠেন। বাড়ির ডাইনিং রুমে পড়ে ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায়ের নিথর দেহ, আর রান্নাঘরে পাওয়া যায় তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়ের রক্তাক্ত লাশ। পরে বাড়ির প্রধান ফটক খুলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী দীপক চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমি প্রায় ৪০-৫০ বছর ধরে দাদুর (যোগেশ চন্দ্র রায়) দেখাশোনা করছি। প্রতিদিন সকালেই আসি। আজ ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে মই দিয়ে ঢুকে দেখি এই ভয়াবহ দৃশ্য। যোগেশ চন্দ্র রায় ২০১৭ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসরে যান। ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক। তাঁর বড় ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় জয়পুরহাটে এবং ছোট ছেলে রাজেশ খান্না চন্দ্র রায় ঢাকায় পুলিশ বিভাগে কর্মরত। সন্তানদের অনুপস্থিতিতে গ্রামের এই বাড়িতে বৃদ্ধ দম্পতি একাই বসবাস করতেন।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী হোসেন এবং পুলিশ কর্মকর্তারা।

এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী হোসেন আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আমরা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।তারাগঞ্জ থানার এসআই মো. আবু ছাইয়ুম জানান, প্রাথমিক সুরতহালে উভয় ভুক্তভোগীর মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভারি কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশ জোর তদন্ত শুরু করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category