
শফিকুল আলম ইমন, রাজশাহী:
সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধে দায়ের করা মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ এবং শিশু রামিসাসহ সারাদেশে সংঘটিত ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবিতে শনিবার সকাল ১১টায় রাজশাহী মহানগরীর জিরোপয়েন্টে রাজশাহী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক সাইদুর রহমান’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তাফা মামুন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাজশাহী এডিটর’স ফোরামের সভাপতি লিয়াকত হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ্জাহান আলী বরজাহান, রাজশাহীর আলো পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক আজিবার রহমান, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহরিয়ার অন্তু, দপ্তর সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন বাবু, এটিএন বাংলার রাজশাহী প্রতিনিধি সুজাউদ্দিন ছোটন, মোহনপুর প্রেসক্লাব’র সভাপতি রুবেল সরকার, সাংস্কৃতিক কর্মী ওয়ালিউল রহমান বাবু, জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন মিন্টু, আতাউর রহমান ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা সরকার, রাজশাহী টেলিভিশন সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজ রকি,
শ্রমিকদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, রাজশাহী জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক অরণ্য কুশুম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান জনি, রাজশাহী মহানগর জাসাসের সদস্য সচিব সেলিম রেজা, যুগ্ম আহ্বায়ক সাঈদ হাসান এবং দপ্তর সম্পাদক সৈকত পারভেজ।
রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তাফা মামুন বলেন, “রাজশাহী প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক নুরে ইসলাম মিলন সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া মডেল থানায় দায়ের করা মিথ্যা মামলা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে। একইসঙ্গে মিথ্যা মামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় ঈদুল আজহার এক সপ্তাহ পর আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে দেশে সাংবাদিক নির্যাতন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সম্পাদক পরিষদের তথ্যমতে, বিভিন্ন হত্যা মামলাসহ নানা মামলায় ২৮২ জন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯৪ জন হত্যা মামলার আসামি। গত ১৫ বছরে ৬১ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩ হাজার ৫৮৮ জন সাংবাদিক।
সাংবাদিক নির্যাতনের অন্যতম কারণ হচ্ছে গণতন্ত্রহীনতা, ভিন্নমত দমন, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার অপচেষ্টা, বিচারহীনতা, পেশাগত অবক্ষয় এবং কতিপয় সুবিধাবাদী সাংবাদিকের চামচামি সংস্কৃতি।” মানববন্ধনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও জাসাসের নেতৃবৃন্দও।
বক্তারা বলেন, শিশু রামিসাসহ সারাদেশে সংঘটিত ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড দেশের মানবিক মূল্যবোধকে গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলেন, “শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বের হতে না পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।” বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, “রামিসাসহ শিশু হত্যার ঘটনাগুলোর বিচার দেশের মানুষ এখন গভীরভাবে প্রত্যাশা করছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হলে মানুষের আইনের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।”
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীতেও প্রকৃত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা, হামলা ও হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিছু অসাংবাদিক ব্যক্তি ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে।
বক্তারা বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের জড়িয়ে এ ধরনের মামলা দায়ের স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য হুমকিস্বরূপ।
মানববন্ধনে বক্তারা সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যথাযথ তদন্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ ছাড়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মতো গুরুতর মামলা গ্রহণ অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। পুলিশকে জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জনবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় রাজশাহীর সাংবাদিক সমাজ, সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।” মানববন্ধন থেকে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার সম্পন্ন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।