বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জয়পুরহাটে দাখিল পরীক্ষার নীতিমালা লঙ্ঘন ও সিসি ক্যামেরা বন্ধের অভিযোগ পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৪ নং বান্ধাবাড়ি ইউনিয়নবাসীকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ হান্নান মোল্লার শুভেচ্ছা টুঙ্গিপাড়ায় ছাত্রদল নেতার নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে যুবকের সংবাদ সম্মেলন ফিটনেসবিহীন যান ও অদক্ষ চালকের কারণেই বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা: সেতুমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাতারের শ্রমমন্ত্রীর সাক্ষাৎ রংপুরে শহীদ ওসমান হাদীর স্মরণে শোক র‍্যালী নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে দায়িত্ব পালন করতে হবে: রংপুর জেলা প্রশাসক দৌলতপুর আদালতের নির্দেশ অমান্য করে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার  অভিযোগ রংপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেন তৃতীয় লিঙ্গের রানী রাজশাহী কলেজ অ্যালামনাই এসোসিয়েশন নির্বাচনে আলোচনায় ওয়ালিদ

জয়পুরহাটে দাখিল পরীক্ষার নীতিমালা লঙ্ঘন ও সিসি ক্যামেরা বন্ধের অভিযোগ

গোলাপ হোসেন, জয়পুরহাট প্রতিনিধি
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
  • ১৪ Time View

গোলাপ হোসেন, জয়পুরহাট প্রতিনিধি:

জয়পুরহাটের হানাইল নোমানীয়া কামিল মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে নীতিমালা লঙ্ঘন, উদ্দেশ্য প্রণোদিত আসন বিন্যাস, সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখা এবং পরীক্ষার্থীদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্র সচিব ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। সোমবার (১৮ মে) জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জয়পুরহাট সিদ্দিকীয়া কামিল মডেল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন এবং কয়েকজন দাখিল পরীক্ষার্থী।

লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১৭ মে) রসায়ন বিষয় পরীক্ষার বহুনির্বাচনী অংশ শুরুর ঠিক আগে হানাইল কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম আকস্মিকভাবে ১০ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করেন। পরে জয়পুরহাট সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা ছাড়া অন্য সব মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের কক্ষ থেকে বের করে দ্বিতীয় তলায় পাঠানো হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় তলা থেকে সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসার ছাত্রীদের নিচে এনে একই কক্ষে ছাত্রদের পাশাপাশি বসিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দাখিল পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালা-২০২৬ এর ৪.৬.৪ ধারা অনুযায়ী একই মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি আসন বিন্যাস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওই নিয়ম ভঙ্গ করে নির্দিষ্ট একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের একত্রে বসানো হয়, যা পরীক্ষার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও শৃঙ্খলা নষ্ট করেছে।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, অন্যান্য মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলেও সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কঠোরতা ও বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়। তারা আরও দাবি করেন, হানাইল মাদ্রাসায় একটি গোপন কক্ষ রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক ও সুপাররা অবস্থান করে প্রশ্নপত্রের উত্তর বা সলিউশন প্রস্তুত করে নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করতেন। পরীক্ষাকক্ষে অতিরিক্ত নজরদারির জন্য তিনজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে মাওলানা বেলায়েত হোসেন সেখানে প্রবেশ করলে দায়িত্বরত শিক্ষকরা তাকে বলেন, এখানে আপনাদের ছাত্র-ছাত্রী নেই, অন্য রুমে গিয়ে দিয়ে আসেন। এখানে শুধু সিদ্দিকীয়া। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি কেন্দ্র সচিব মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম-কে জানানো হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
খবর পেয়ে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন নাহার কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় চার শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বহুনির্বাচনী পরীক্ষার সময় প্রায়ই বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হতো এবং ওই সুযোগে প্রশ্নের সমাধান সরবরাহ করা হতো। এমনকি কিছু সময় সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখারও অভিযোগ তোলা হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট কেন্দ্রে পৌঁছাতে বিলম্ব করলে সেই সুযোগে নির্ধারিত কক্ষে বিশেষ ব্যবস্থায় প্রশ্ন সমাধান করা হতো এবং কিছু পরীক্ষার্থীকে সিসি ক্যামেরার আওতার বাইরে কক্ষে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো।

এ ছাড়াও পরীক্ষার্থীদের এডমিট কার্ড জমা নিয়ে পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে হানাইল মাদ্রাসায় আলিম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, দাখিল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের অজান্তেই তাদের এডমিট কার্ডের তথ্য ব্যবহার করে হানাইল মাদ্রাসায় অনলাইনে আলিম ভর্তির আবেদন সম্পন্ন করা হতো, যাতে তারা অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে না পারে। অভিযোগে আরও বলা হয়, পরীক্ষা পরিচালনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের এক বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার শিক্ষকরা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না বলে সিদ্ধান্ত হলেও তা মানা হয়নি। বরং কিছু শিক্ষক খণ্ডকালীন ও সার্বক্ষণিকভাবে কেন্দ্রে অবস্থান করেছেন।

এ বিষয়ে জয়পুরহাট সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন বলেন, একটি নির্দিষ্ট দিনে ও নির্দিষ্ট বিষয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসন বিন্যাস পরিবর্তন করা সুস্পষ্ট অনিয়ম। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। হানাইল নোমানিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম অভিযোগের বিষয়ে বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে বহিরাগতদের মাধ্যমে নকল সরবরাহসহ সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখার কারণে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে কেন্দ্রটির সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন নাহার বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category