
খন্দকার ছদরুজ্জামান, নড়াইল:
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় ভূমিদস্যুতা ও ভূমি জালিয়াতির অভিযোগে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। রোববার সকাল ১০টার দিকে লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জাল দলিল ও ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন জমি দখলের চেষ্টা করছেন। এ সময় শাহজাহান কুটি, জাহিদ হোসেন ও শাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভূমি জালিয়াতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তোলা হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক পরিবার জমি ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছে। লক্ষীপাশা গ্রামের বাসিন্দা সুশান্ত বিশ্বাস বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে ব্যবহৃত একটি রাস্তার জমি জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে দখলের চেষ্টা চলছে। এতে কয়েকটি সংখ্যালঘু পরিবার চলাচলে সমস্যার মুখে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট নেওয়াজ আহম্মেদ ঠাকুর নজরুল, বিএনপি নেতা আনিসুর রহমান কামাল, সৈয়দ শাহ আলম, ভুক্তভোগী সুশান্ত বিশ্বাস ও এসএম ইমাম আলী।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহজাহান কুটি, জাহিদ হোসেন ও শাহিদুল ইসলাম তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা বলেন, তারা সাধারণ ব্যবসায়ী এবং জমি কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন সময় তারাও হয়রানি, নির্যাতন ও চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন। অভিযোগের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তারা। অভিযুক্তরা আরও বলেন, কোনো জমির মালিক যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তাদের জমি জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে কিংবা ভুয়া দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়েছে, তাহলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তাদের দাবি, ব্যক্তিগত বিরোধ ও স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ ছাড়া, ব্রিটিশ আমলের রাস্তা সংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গেও নিজেদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তারা। তাদের ভাষ্য, অন্য ব্যক্তির বিষয়ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে বিষয়টি ইতোমধ্যে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে সমাধান করা হয়েছে বলেও জানান তারা।
অভিযুক্তরা আরও বলেন, “আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে আমরা সামান্য ব্যবসা করে পরিবার নিয়ে সাধারণ জীবনযাপন করার চেষ্টা করছি। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও সমাজের কাছেও আমরা নিরাপত্তা দাবি করছি।”
লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী কায়সার স্মারকলিপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।