বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ০২:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নিয়োগ সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির অভিযোগে নওগাঁ জেলা জজ আদালতের সাবেক সেরেস্তাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ গঙ্গাচড়া বেতগাড়ী গরুর হাটে সরকারি নীতিমালা ভেঙে প্রকাশ্যে অতিরিক্ত অর্থ আদায় টুঙ্গিপাড়ায় কুরবানীর পশু বেচাকেনা নিম্নমুখী নেই, ঈদের আমেজ উন্নয়ন, সততা ও জনসেবায় জনপ্রিয় মুখ — চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী  মোঃ হান্নান মোল্লা প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেলেন রাসিকের ১২৩৭জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী লোহাগড়ায় ভূমি জালিয়াতির অভিযোগে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও শিশু ধর্ষণ-হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন জয়পুরহাটে ট্রাকের চাপায় মাহফুজুল ইসলাম নামের এক এনজিও কর্মীর  মৃত্যু  ত্রিশালে ডিএসকে দুস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের শিক্ষা বৃত্তি ও চেক বিতরণ ঈদুল আযহা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জয়পুরহাট চ্যাম্পিয়নস ট্রফি 

গঙ্গাচড়া বেতগাড়ী গরুর হাটে সরকারি নীতিমালা ভেঙে প্রকাশ্যে অতিরিক্ত অর্থ আদায়

রিয়াজুল হক সাগর,রংপুর
  • Update Time : বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬
  • ১৭ Time View

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী গরুর হাটে সরকারি নীতিমালা ভেঙে প্রকাশ্যে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও চাঁদাবাজির মতো পরিস্থিতি চলছে বলে স্থানীয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত সরকারি ফি উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে, যা ঈদউল আজহা গরুর হাট উপলক্ষে কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছায় বলে দাবি করা হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ফি নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। গরু কেনাবেচার ক্ষেত্রে রশিদে উল্লেখিত ৬০০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। একইভাবে বিক্রেতাদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত ৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ছাগল কেনাবেচার ক্ষেত্রেও ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি নির্ধারিত ২২০ টাকার পরিবর্তে প্রতি ছাগল লেনদেনে প্রায় ৬০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে জানান একাধিক ক্রেতা ও বিক্রেতা। অভিযোগ রয়েছে, এ ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয়ের কাছ থেকেই অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে যাহা নিয়ম বহির্ভূত।

অন্যদিকে হাঁস-মুরগির মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এ অনিয়ম থেকে বাদ পড়ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতি পিস হাঁস বা মুরগির জন্য ১০ টাকা করে জোরপূর্বক আদায় করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিক্রেতারা। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে স্থানীয়রা বলছেন, হাট এলাকায় সরকারি নির্ধারিত ফি তালিকা প্রকাশ্যে টানানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেখানে এমন কোনো তালিকা দেখা যায়নি। এতে করে সাধারণ মানুষ প্রকৃত ফি সম্পর্কে জানতে পারছেন না এবং ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। হাটে দায়িত্বে থাকা একাধিক রশিদ লেখক ও মোোঃ হাসান মিয়া ও ছমিউর রহমান, বলেন আমরা হাট ইজারাদার এর নির্দেশে ক্রেতার কাছে ৮ শত টাকা ও বিক্রেতার কাছে ৩ শত টাকা আদায় করছি এখানে আমাদের কোন নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেই, গরু প্রতি আমরা ৫০ টাকা করে পাব। করে জানান, তারা নিজেরা সিদ্ধান্ত নেন না। ইজারাদার পক্ষের নির্দেশ অনুযায়ীই অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয় বলে তারা দাবি করেন।

ক্ষুব্ধ এক বিক্রেতা মুকুল মিয়া বলেন, “এটা আর হাট নেই, এটা জোর করে টাকা নেওয়ার জায়গা হয়ে গেছে। সরকার এক নিয়ম দেয়, আর এখানে এসে দেখি আরেক নিয়ম। গরিব মানুষের ওপর জুলুম চলছে।”ধনতলা এলাকা থেকে আসা ক্রেতা বাচ্চা মিয়া বলেন, “প্রতিবাদ করলেই ভয় দেখানো হয়। আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি।”

এ বিষয়ে হাটের ইজারাদার আবিদা সুলতানার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অতিরিক্ত হাসিল আদায় বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার ( ভূমি) হামিদুল ইসলাম বলেন আমি বর্তমান হাটে অবস্থান করছি অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করছি,প্রমাণ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব, প্রশাসনের যোগসাজসে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় ক্রেতার দাবীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন জনগণ অনেক কিছুই মনে করতে পারে কিন্তু ইজারাদারের সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে অভিযোেগরবিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত করে বেতগাড়ী হাটে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category