
ফারহান লাবিব, টুঙ্গিপাড়া:
ঈদুল আজহা উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ঐতিহ্যবাহী পাটগাতী পশুর হাটে অজস্র পশুর আমদানি হলেও নেই পর্যাপ্ত বেচাকেনা। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিক্রেতারা বলছেন পাটগাতির হাটে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার উৎসব মুখর পরিবেশ বেশ খানিকটা কম এবং কেমন যেন ক্রেতা শূন্য। মধুমতি নদীর পাড়ে শেখ লুৎফর রহমান সেতুর নিচের মাঠজুড়ে বসা এ হাটে বাড়ছে পশুর আমদানি কিন্তু বেচাকেনা নিম্নমুখী, খামারিরা বলছেন এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে খামারি ব্যবসা ব্যাপক ক্ষতি হবে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে খামারিরা গরু, মহিষ, ছাগল, খাসি ও ভেড়া নিয়ে আসছেন। বিশেষ করে মাঝারি আকারের দেশীয় গরুর চাহিদা বেশি দেখা গেছে। হাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতি পশু বিক্রিতে সরকার নির্ধারিত শতকরা ২ টাকা ৫০ পয়সা খাজনা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাজার কমিটি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
ওমর আলি ফকির নামে এক বিক্রেতা বলেন, প্রতিবছর এখানে ব্যাপক সরগরম থাকে কিন্তু এবার এর পরিস্থিতি নিমিঝিমী। আব্দুল মাজেদ নামের আর এক খামারী বলেন, অনেক আশায় এবার ৫ টি পশু মোটাতাজা করেছি। উচ্চ মূল্যের খাদ্যসামগ্রী খাইয়েছি। কিন্তু বাজার পরিস্থিতি যা তাতে লাভ তো দূরে থাক চালান উঠানো ও দ্বায়। আগত পশুদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য রয়েছে উপজেলা ভেটেরিনারি এর বিশেষ টিম পশুর হাটটি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হবে। পাশাপাশি ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ বিশ্বাস জানান, উপজেলায় কোরবানির জন্য চাহিদা রয়েছে ৪ হাজার ১২২টি পশু। এর বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ৪ হাজার ২৩৯টি পশু, যা চাহিদার তুলনায় ১১৭টি বেশি। এর মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ১৮৪টি ষাঁড়, ১৭টি বলদ, ৮২টি গাভী, ৯৩৮টি ছাগল ও ১৮টি ভেড়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় খামারভিত্তিক উৎপাদন বাড়ায় এখন কোরবানির পশুর জন্য বিদেশি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমেছে। তবে পশু খাদ্য মূল্য আকাশ ছোঁয়া হলেও পশুর বাজার মুল্য নিম্নমুখী ফলে শঙ্কায় রয়েছেন খামারিরা। শঙ্কা কেটে শেষ মুহূর্তে হয়তো ভালো ফলাফল আসবে এটা ভেবেই প্রহর গুনছেন বিক্রেতারা।