বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ০১:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নিয়োগ সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির অভিযোগে নওগাঁ জেলা জজ আদালতের সাবেক সেরেস্তাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ গঙ্গাচড়া বেতগাড়ী গরুর হাটে সরকারি নীতিমালা ভেঙে প্রকাশ্যে অতিরিক্ত অর্থ আদায় টুঙ্গিপাড়ায় কুরবানীর পশু বেচাকেনা নিম্নমুখী নেই, ঈদের আমেজ উন্নয়ন, সততা ও জনসেবায় জনপ্রিয় মুখ — চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী  মোঃ হান্নান মোল্লা প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেলেন রাসিকের ১২৩৭জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী লোহাগড়ায় ভূমি জালিয়াতির অভিযোগে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও শিশু ধর্ষণ-হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন জয়পুরহাটে ট্রাকের চাপায় মাহফুজুল ইসলাম নামের এক এনজিও কর্মীর  মৃত্যু  ত্রিশালে ডিএসকে দুস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের শিক্ষা বৃত্তি ও চেক বিতরণ ঈদুল আযহা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জয়পুরহাট চ্যাম্পিয়নস ট্রফি 

নিয়োগ সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির অভিযোগে নওগাঁ জেলা জজ আদালতের সাবেক সেরেস্তাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

নাজমুল হক, নওগা
  • Update Time : বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬
  • ৪০ Time View

নাজমুল হক,  নওগাঁ:

নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতি ও পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে প্রাক্তন সেরেস্তাদার মামুনুর রশীদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। আদালতের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলা কথিত নিয়োগ সিন্ডিকেট ও নানা অনিয়ম নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এ নোটিশ জারি করা হয় বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে। নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ কার্যালয় একটি সূত্রে জানা যায়, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ রোকনুজ্জামান স্বাক্ষরিত ১৭ মে ২০২৬ তারিখের স্মারক নং-১৮৫/জি নোটিশে সাবেক সেরেস্তাদার মামুনুর রশীদের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত বক্তব্য দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সাপাহার উপজেলার করমুডাঙ্গা গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন, তিলনা গ্রামের রবিউল ইসলাম এবং নওগাঁ সদর উপজেলার পারবোয়ালিয়া এলাকার রফিক জোয়ারদারের পৃথক পৃথক তিনটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭ সালে নিম্নমান সহকারী পদে চাকরিতে যোগদানের পর তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজের প্রভাব খাটিয়ে মামুনুর রশীদ আদালতের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। পরবর্তীতে নওগাঁ সদর উপজেলার বক্তারপুর এলাকার মনোয়ার হোসেন ভুট্টু ওরফে “এসি ভুট্টু” নামের এক এসি মিস্ত্রির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে আদালতের বিভিন্ন নিয়োগে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করেন।

অভিযোগে বলা হয়, এই নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হয়ে ওঠেন কথিত সিন্ডিকেট সদস্য মনোয়ার হোসেন এসি ভুট্টু। তিনি নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ জমি ও স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় এবং বন্দক নিয়েছেন এবং তিনি বর্তমানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছেন বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেন। নোটিশে আরো উল্লেখ করা হয়, মনোয়ার হোসেন এসি ভুট্টু ও মামুনুর রশিদ বাাঁধন নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ আদালত ও চিফ জুটিশিয়াল কোর্টের আওতাধিন বিভিন্ন নিয়োগ ব্যনিজ্যের সিন্টিগেট তৈরী করে নিয়োগ ব্যনিজ্য শুরু করে। ২০১৯ ইং সালে নিয়োগ বানিজ্যের সময় ভুট্টুর আপন ছোট ভাই ১। রিন্টু হোসেন প্রসেস সার্ভার, জেলা জজ আদালত, নেজারত ও ভুট্টুর ভাবি ২। উতুবিহি মোতাহ সাবিহা অফিস সহায়ক অনুলিপি শাখা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নওগাঁ, ৩। মিলন হোসেন জেলা জজ নেজারত শাখা ৪। নয়ন জারি কারক, জেলা জজ নেজারত শাখা ৫। আজাদুল ইসলাম অফিস সহায়ক যুগ্ম জেলা ও দায়রা (২য়) ৬। শামিম হোসেন স্টেনোগাফার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম ৭। সাহাদাত হোসেন গাড়ি চালক ৮। ফারহানা শান্তি নিম্নমান সহকারি সিনিয়র সহকারী জজ আদালত ৯। সালেহ ফেরদৌস ব্রেঞ্চ সহকারি, অতিরিক্ত জেলা জজ (৪র্থ) ১০। সঞ্চয় কুমার ব্রেঞ্চ সহকারী পত্নীতলা সিনিয়র সিভিল জজ আদালত ১১। জহুরুল ইসলাম ব্রেঞ্চ সহকারি যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ আদালত (২য়) ১২। সাগর হোসেন কে ২০২২ ইং সালে স্পেশাল ট্রাইবুনাল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আদালতের স্ট্যানোগ্রাফার পদে সহ প্রায় ২০/২৫ জনকে অত্র জজ আদালতের কর্মচারী হিসাবে নিয়োগের মাধ্যমে আনুমানিক ৪০/৪২ লক্ষ করে কোটি কোটি টাকা অর্থ হাতিয়ে নেয়।

এতে করে মনোয়ার হোসেন ভুট্টু (এসি ভুট্টু) ও মামুনুর রশীদ এখন কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার সুবাদে অনুমানিক ২০/২৫ বিঘা জমি, ৩০ লক্ষ টাকা বিঘা মূল্য নামে বেনামে ক্রয় করেছ এমন লিখিত অভিযোগ হয়েছে।অপরদিকে গত ৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত আদালতের কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় মামুনুর রশীদ নিজেকে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করে এক পরীক্ষার্থীকে উত্তর লিখতে সহায়তা করার সময় হাতেনাতে আটক হয়। আটকের পরে দায়িত্বরত স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট তাকে জালিয়াতির অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়। সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজের নোটিশে আরো বলা হয়েছে। এসব অভিযোগে কারণে আদালতের মান-সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত থাকার প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়, যা অসদাচরণের শামিল। এ কারণে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে আদালতপাড়ায় এ নোটিশ জারির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনায় এসেছে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত নিয়োগ সিন্ডিকেট, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আদালতকেন্দ্রিক নানা অনিয়মের বিষয়গুলো।  নিয়োগ সিন্ডিকেটের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মামুনুর রশীদ এর সঙ্গে এবিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে নোটিশ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পন্ন মিথা আমার ক্ষমতা নাই নিয়োগ দেওয়ার উচ্চ মহলের বিষয় আমার কোন হাত নাই। এদিকে মনোয়ার হোসেন এসি ভুট্টুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মনোয়ার হোসেন এসি ভুট্টু জানাই আমি মেহনত করে ইনকাম করি। আমার ইনকামে কিছু লোক ইশান্নিত করে আমাকে হেও করার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category