সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রংপুর মেডিকেলে রোগীদের ছুটি দিয়ে তালাবদ্ধ কিডনি ওয়ার্ড, চিকিৎসাবিহীন রোগীরা দৌলতপুরে শরিফ উদ্দিন জুয়েলের সৌজন্যে  জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত  ত্রিশাল মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের ঈদ উপহার বিতরণ শ্রীপুর পৌর ৬নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনগণকে রাসেল মৃধার পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল আযহা’র শুভেচ্ছা  নিয়োগ সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির অভিযোগে নওগাঁ জেলা জজ আদালতের সাবেক সেরেস্তাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ গঙ্গাচড়া বেতগাড়ী গরুর হাটে সরকারি নীতিমালা ভেঙে প্রকাশ্যে অতিরিক্ত অর্থ আদায় টুঙ্গিপাড়ায় কুরবানীর পশু বেচাকেনা নিম্নমুখী নেই, ঈদের আমেজ উন্নয়ন, সততা ও জনসেবায় জনপ্রিয় মুখ — চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী  মোঃ হান্নান মোল্লা প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেলেন রাসিকের ১২৩৭জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী লোহাগড়ায় ভূমি জালিয়াতির অভিযোগে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি

কোটালীপাড়া হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবার করুন হাল

আবুল কালাম মৃধা, কোটালীপাড়া
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৬৬ Time View

আবুল কালাম মৃধা,কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ):

ডাক্তার সংকট, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব, এক্স-রে মেশিন বন্ধ, অপারেশন থিয়েটার থাকলেও ডাক্তারের অভাবে তাহা বন্ধ রয়েছে। এসব কারনে কোটালীপাড়া উপজেলা হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবা ভেঙ্গে পড়েছে। জানাগেছে, ১শত শয্যার এ হাসপাতালটিতে বিশেষজ্ঞ সহ মোট ৫২জন ডাক্তারের পদ থাকলেও বর্তমানে ডাক্তার রয়েছেন মাত্র ৪জন। কাগজে কলমে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও পুরুষ মহিলা ও শিশু ওয়ার্ড মিলিয়ে ৬০টি শয্যা রয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি আবার অকেজো। রুগীদের অভিযোগ এ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর কোন ডাক্তার ওয়ার্ডে এসে রুগী দেখেন না। এমনকি প্যারাসিটামল, হিস্টাসিন ও স্যালাইন ছাড়া কোন ওষুধ রুগীদের দেওয়া হয় না। বেশির ভাগ দামী ওষুধ দোকান থেকে কিনে নিতে হয়। সরজমিন দেখা গেছে, হাসপাতালে পুরুষ ওয়ার্ডে ১২ নম্বর শয্যায় বান্ধাবাড়ী গ্রামের ৯০ বছর বয়সী জালাল উদ্দিন জ্বর কাশি ও বুকের ব্যথ্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছেন গত ২৪ নভেম্বর। তিনি বলেন- ৫ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছি। এর মধ্যে কোন ডাক্তার ওয়ার্ডে রুগী দেখতে আসেন নাই। এমনকি কোন ওষুধও হাসপাতাল থেকে দেয় নি। সকল ওষুধ সামনের দোকান থেকে কিনে এসে খাই। ভর্তিকৃত অন্য রুগীদের অভিযোগও বিস্তর। টিহাটী গ্রামের দেড় বছরের শিশু অজুফাকে নিয়ে তার মা বসে আছেন শিশু ওয়ার্ডের ১৮ নম্বর শয্যায়, তিনি জানান- শিশু কন্যার নিউমোনিয়া নিয়ে ৭ দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হইছি, এ পর্যন্ত কোন ডাক্তার রুগী দেখতে আসেন নাই, জরুরী বিভাগে ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি কথা শুনে কাগজে ওষুধ লিখে দেন, সামনের দোকান থেকে ওষুধ কিনে বাচ্চাকে খাওয়াইতেছি, হাসপাতাল থিকা কোন ওষুধ দেয় নাই। এ ব্যাপারে হাসপাতালের কর্মরত নার্স বাসন্তি দাস এ প্রতিবেদককে জানান- হাসপাতালে বরাদ্দকৃত স্যালাইন সহ বিভিন্ন ওষুধই রুগীদের দেওয়া হয়, তবে শিশুদের জন্য ব্যবহৃত স্যালাইন হাসপাতালে নাই। মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি বর্ষাপাড়া গ্রামের প্রিয়ংকা খাতুন তিনি ২ দিন আগে পেটের ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন- একটি স্যালাইন ছাড়া অন্য কোন ওষুধ হাসপাতাল থেকে পাই নাই, সব ওষুধ সামনের দোকান থেকে কিনে এনে খাচ্ছি। এ বিষয়ে কর্তব্যরত আরেক নার্স বলেন- রুগীরা যে ভাবে বলে আদৌ সেটা ঠিক নয়। আমাদের যে সব ওষুধ আছে তা সবই রুগীদের দেওয়া হয়। ওদিকে হাসপাতালের টয়লেট গুলোর অবস্থা করুন, দূর্গন্ধময় ময়লা আবর্জনা ভর্তি টয়লেটগুলো। শুধু টয়লেট নয় হাসপাতালের ভিতরে যত্রতত্রই ময়না আবর্জনার স্তুব লক্ষ করা গেছে। টয়লেট বাথরুমে নেই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। কাগজে কলমে ১শ শয্যা হলেও ৬০টি শয্যা ব্যবহৃত হচ্ছে। ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন থাকলেও অদৃশ্য কারনে তা কয়েক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালে লিফট ব্যবস্থা থাকলেও তাহা অচল হয়ে দাড়িয়ে আছে। খোজ নিয়ে জানাগেছে হাসপাতালে ৫২ জন ডাক্তারের স্থলে রয়েছে ৪ জন। আয়া ২জনের স্থলে রয়েছে ১জন, সুইপার ৫ জনের স্থলে ৩জন আউট সোর্সিংয়ে কাজ করে। স্বাস্থ্য সহকারী ৫০ জনের স্থলে রয়েছে ৩১ জন। এব্যাপারে কোটালীপাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্প কর্মকর্তা ডাক্তার কুমার মৃদুল দাস জানান- জুলাই আন্দোলনের পরে এখানের অনেক ডাক্তারই ইচ্ছাকৃত ভাবে বদলী হয়ে চলে গেছে, আমি ডাক্তার পাওয়ার জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করি আগামী জানুয়ারীতে কিছু ডাক্তার এখানে যোগদান করবেন। আর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ব্যাপারে আমি যথেষ্ট যতœবান। রুগীরা অসচেতন হওয়ায় যত্রতত্র ময়লা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category